শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১২

অবাক বিস্ময়ের বান্দরবান


বন্ধুরা মিলে অনেক বাছাবাছির পর ঠিক হলো বান্দরবান যাবো। একে তো পরীক্ষা শেষ, দ্বিতীয়ত এই শহরের যান্ত্রিকতায় কখন যে নিজেও যন্ত্রে পরিণত হয়ে গেছি টেরই পাই নি। আর এই যান্ত্রিকতার অবসানের জন্যই আমাদের এই অবাক বিস্ময়ের বান্দরবান যাওয়া। 


১৪ মার্চ,রাত ৮.৩০ টাঃ বাসার সবাইকে বিদায় দিয়ে রিক্সায় উঠলাম। বন্ধুরা সবাই ফকিরাপুল একত্রিত হবো। বাসের টিকেট আগে থেকেই কাটা আছে। রিক্সায় উঠার পর রিক্সাচালকের সাথে আমার কথোপকথনের কিছুটা না বললেই নয়। 


- মামা, এত ব্যাগ ট্যাগ নিয়ে কই যাচ্ছেন? চট্টগ্রাম নাকি কক্সবাজার? - না মামা, বান্দরবান যাচ্ছি। - বন্ধুরা মিলে যাচ্ছেন? - হ্যাঁ, ভার্সিটির বন্ধুরা মিলে। - মাইয়্যা কয়টা? [ প্রশ্নটা শুনে কিছুটা ইতস্তত হলাম ] - না মামা কোন মেয়ে নাই। মেয়েদের বাবা-মা ওদেরকে যেতে দিবে না। আরো বড় হয়ে নিক, তারপর। [ তছাড়া জেনে শুনে কেন কাঁধে ঝামেলা নিয়ে বেড়াবো? মেয়ে জিনিসটাই যে ঝামেলার ]



১৫ মার্চঃ 


বান্দরবান শহরঃ খুব ভোরেই পৌঁছে গেলাম বান্দরবান শহরে। চারদিকে এখনো কোলাহল শুরু হয় নি। অচেনা শহরের সব কিছুই কেমন যেন অন্য রকম। আর এই অন্য রকম লাগা আরো বেড়ে গেল যখন পুরো বাজার ঘুরেও “মামুন হোটেল” নামের কোন হোটেল খুঁজে না পাওয়ায়। 


আমাদের গন্তব্য এখন রুমা বাসস্ট্যান্ড, ওখান থেকে রুমা ঘাট, এর পর নৌকা বা ট্রলারে করে রুমা বাজার। রুমা বাজারে আমাদের গাইড ঠিক করে রাখা আছে। 


রুমা বাসস্ট্যান্ডঃ বান্দরবান শহর থেকে কিছুটা দূরেই রুমা বাসস্ট্যান্ড। গাড়িতে করে ১০ মিনিট যেতেই পৌঁছে গেলাম সেখানে। রাস্তায় যেতে যেতে পাহাড়ের মুগ্ধতা দেখে মুগ্ধ হলাম। পাহাড়ের চূড়ায় বাড়ি-ঘর। কখনো ওইভাবে কল্পনাও করেনি। 


রুমা ঘাটঃ রুমা ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। পাহাড়ি সৌন্দর্য খুব কাছ থেকে অবলোকন করার সুযোগ পেয়ে বেশ ভাল অনুভূত হচ্ছিল নিজের মাঝেই। বেশ অনেকখানি (২ ঘন্টা) আঁকাবাঁকা উঁচু-নিচু পাহাড়ি রাস্তা পাড়ি দিয়ে রুমা ঘাটে পৌঁছালাম। ঘাটে নৌকা ছিল, কিন্তু ইঞ্জিন-চালিত নৌকায় করে গেলে অনেকটা সময় বাঁচবে। তাই অপেক্ষায় রইলাম আর এই অবসরে শুরু করে দিলাম আমাদের চিরচারিত 29 Card খেলা। 


রুমা বাজারঃ ইঞ্জিন চালিত নৌকায় করে রুমা বাজারের উদ্দেশ্যে যাচ্ছি। নদীটির নাম “সাঙ্গু নদী” নদীর  হীমশিতল পানিতে হাত   রাখা কি যে প্রশান্তির তা সেদিন খুব ভালভাবে অনুভব করলাম। নদীতে ছোট-ছোট ছেলে মেয়েদের সাঁতার কাটতে দেখে নিজেরও খুব ইচ্ছে হচ্ছিল নদীতে নেমে পড়ার। কিন্তু তা আর হল না। নদীর স্রোত পাড়ে যখন আছড়ে পড়ছিল, সেটা দেখার মত দৃশ্য ছিল। 


বাজারে পৌঁছাতেই গাইড এসে আমাদের নিয়ে গেল হোটেলে। সেখান থেকে খেয়ে দেয়ে রওনা হলাম বগালেকের উদ্দেশ্যে। 


বগালেক পাহাড়ঃ  জীপে করে বগালেক পাহাড়ের নিচে নামলাম। পাহাড়ের উচ্চতা দেখে সত্যিই ভয় পেয়ে গেলাম। আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে উঠা শুরু করলাম। টিভিতে পাহাড়ে উঠা দেখলে মনে হয়, কতই না সহজ, কিন্তু বাস্তবতা বলে ভিন্ন কথা। কিছুটা উপরে উঠতে গিয়েই হাঁপিয়ে উঠলাম। একে তো টানা জার্নি, তার উপর অক্সিজেনের সল্পতা। খুব কষ্ট হয়ে গেলো পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে। পাহাড়ের উপর থেকে সব কিছু অনেক ছোট ছোট লাগছিল দেখতে। 


 বগালেকঃ বগালেক পাহাড় থেকে নেমে বগালেক পাড়ায় এক আদিবাসীর বাসায় উঠলাম। কিছুক্ষণ বিশ্রামের পরই চলে গেলাম  বগালেকে গোসলের জন্য। অসম্ভব রকম সুন্দর লাগছিল লেকটাকে দেখেতে। সামনে দিগন্তজোড়া  বিশাল পাহাড়, তার উপর সূর্য অস্ত যাচ্ছে। সারাদিনের জার্নিতে শরীর খুব বেশি রকম ক্লান্ত। আর লোভ সামলাতে পারলাম না। নেমে গেলাম লেকে। লেকের পানি এত ঠাণ্ডা ছিল, নিমিষেই সকল ক্লান্তি দূর করে দিল। প্রায় এক ঘন্টার মত পানিতে ছিলাম। এর একটা ঘন্টা সারা জীবনের জন্য সৃতির পাতায় গেঁথে থাকবে। রাতের বেলায় কার্ড খেলা তো ছিলোই


১৬ মার্চঃ কেওক্রাডাং – সকালের নাস্তা করে কেওক্রাডাং এর উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। প্রথমে অবশ্য ঠিক হয়েছিল পায়ে হেঠেই উঠবো। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে জীপ পেয়ে যাওয়ায়, এতে করেই রওনা হলাম। ভাবতেই অবাক লাগে, এত উঁচু উঁচু পাহাড়ের উপর কি করে গাড়ি উঠে। সত্যিই অকল্পনীয়। 


কেওক্রাডাং এর উপরে উঠে নিজেদেরকে মনে হচ্ছিল অনেক কিছু জয় করে ফেলেছি। তখনো বুঝতে পারি নি সামনে আমাদের জন্য কি অপেক্ষা করছিলো। আমাদের ঐদিনের মধ্যেই যাদিপাই ঝর্ণা দেখার কথা ছিল। হাতেও অনেক সময় বাকি। আমরা রওনা হলাম। 


যাদিপাই পাড়াঃ   প্রখর রোদ, আমরা হাঁটছি তো হাঁটছিই।পথ আর শেষ হচ্ছে না। মনে হয়েছিল খুব কাছেই হয়তো হবে ঝর্ণা। কিন্তু   তা না। প্রায় ৪ ঘন্টা হাটার পর আমরা যাদিপাই পাড়াতে পৌছালাম। ওখানে ব্যাগ রেখে রওনা হলাম যাদিপাই ঝর্ণার উদ্দেশ্যে। 


যাদিপাই ঝর্ণাঃ আমাদের পথ যেন কিছুতেই কমছিল না। প্রায় এক ঘন্টা হাটার পর একটা পাহাড়ের উপড় উঠলাম, আর উঠে যা দেখলাম তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। আমাদেরকে পুরো ৯০ডিগ্রি ঢালু একটা পাহাড় নামতে হবে ( স্লোপ [ঢাল] টেন্স টো ইনফিনিটি ), আমরা দেখেই হতাশায় ভেসে গেলাম, এতটা পথ হেটে এলাম, এখন ফেরতও যাওয়া যাবে না। আল্লাহ্‌র উপর ভরসা নিয়ে নামতে শুরু করলাম। বিশ্বাস করতে এখনো ভয় লাগে যে,      আমাদের মধ্যে কারো পা একবার স্থানচ্যুত হলেই সরাসরি পাঁথরের গায়ে পড়ে যেতাম। আর এর ফলাফল সুখকর হত না। প্রায় আধা ঘন্টা লাগিয়ে অনেক সাবধানে নামলাম পাহাড় থেকে। নেমেই যাদিপাই ঝর্ণার দেখা পেলাম। আর দেড়ি করতে পারলাম না। দৌরে নেমে গেলাম ঝর্ণার পানিতে। এত ঠান্ডা হয় ঝর্ণার পানি, তা আগে ধারণা ছিল না। ঝর্ণার মধ্যে গা ভিজাতেই হারিয়ে যাচ্ছিলাম। চোখ মেলতেই রংধনুর দেখা মেলতো। সে এক অবর্ণনাতীত অভিজ্ঞতা। সেখানে আমরা প্রায় ১ ঘন্টার মত সময় কাটালাম। 


থাইক্ষ্যাং পাড়াঃ যাদিপাই ঝর্ণা থেকে উঠে এসে, যাদিপাই পাড়া হয়ে আমরা রওনা হলাম থাইক্ষ্যাং পাড়ার উদ্দেশ্যে। আমরা রাস্তায় লাঠির মহত্ত্ব বুঝতে পারলাম। লাঠিতে ভর করে করে পাহাড় উঠা অনেকটা সহজ হয়ে যায়। এতক্ষণ পাহাড়ে উঠতে যতটা কষ্ট হচ্ছিলো, তা লাঠির বৌদলতে অনেকখানি কমে গেছে। আমাদের বন্ধু সাদির একটা ডাইলগ না দিলেই নয়-                               “Climbing A Hill Without A Stick Is Very Hard”  


অনেকখানি পথ চলার পর সন্ধ্যানাগাদ আমরা থাইক্ষ্যাং পাড়ায় পৌঁছালাম। পথোমধ্যে “৫ মিনিট” এর একটা গল্প ছিল। এটা নিয়ে আরেকটা গল্প লেখা যাবে। তাই আজ আর আলোচনা না করি। 


থাইক্ষ্যাং পাড়ায় স্কুল ঘরেই আমাদের রাত কাটাতে হল। কিছুটা গল্প আর কার্ড খেলা তো সবসময়ের মত ছিলই। রাতের আকাশ দেখতে বের হয়েছিলাম। এত স্বচ্ছ আকাশ!!! কখনো কল্পনাও করে নি। আকাশের প্রিতিটি তারা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। আমি অবাক হয়ে আকাশপানে চেয়ে ছিলাম। 


১৭ মার্চঃ আজ আমাদের লক্ষ্য বাকলাই ঝর্ণা। খুব বেশি দূরে না। ৬ ঘন্টার টানা হাঁটা। তাই আমরা প্রস্তুত হচ্ছিলাম। যাত্রা শুরুর কিছু আগেই একটা অসাধারণ অভিজ্ঞতা লাভ করলাম। নিজ চোখে পাহাড়ি মেয়েদের নাচ দেখার সৌভাগ্য হল আমাদের। 


বাকলাই যাচ্ছি। রাস্তায় আমরা সবাই অনেক বেশি রকম ইমোশনাল হয়ে পরেছিলাম। এর পেছনে কারন হলো- আমরা এতটা রিমোট অঞ্চলে চলে এসেছিলাম যে, সচরাচর এখানে মানুষজন খুব কম আসে, তাই রাস্তাঘাট ( মানে পাহাড়ের কিনারের রাস্তা ) অতটা ভাল না। রাস্তায় অনেক আর্মি সিভিলিয়ানদের সাথে দেখা হলো। তাদের মধ্যে একজন তো কেঁদেই ফেলল আমাদের দেখে। তার কথা গুলো আমার কানে এখনো বাজে- “আমরা তো মুখ্য শুখ্য মানুষ, পাহাড়-পর্বতের সৌন্দর্য আমাদের বোঝার ক্ষমতা নাই। আপনাদের মত শিক্ষিত মানুষ এলেই না আমাদের দেশটা পৃথিবীর বুকে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে।” কথাগুলো বলতেই কেঁদে ফেললেন। আমাদের বুঝতে অসুবিধা হল না যে, উনি আর যাই হোক, মুখ্য নন



বাকলাই পাড়াঃ পাহাড়ি দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে প্রায় ৬ ঘন্টা পর আমরা বাকলাই পাড়ায় পৌঁছালাম। ঐদিন প্রথমবারের মত টের পেয়েছিলাম পানি পিপাসা কতটা কষ্টের। সেখানে এক আদিবাসীর বাসায় উঠলাম। উঠেই রওনা হলাম বাকলাই ঝর্ণার উদ্দেশ্যে। 


বাকলাই ঝর্ণাঃ আমরা বাকলাই ঝর্ণায় পৌঁছালাম। আমাদের গাইড আপেল এই ঝর্ণা চিনে না। তাই সাথে করে এক আদিবাসী ছেলেকে নিয়ে আসে। মেজাজটা তখন চরম বিগড়ে যায়, যখন দেখলাম আমরা আগের পথ ধরেই হাঁটছি। আমরা ঝর্ণা আরো ১ঘন্টা পথ পিছনে রেখে এসেছি। বাকলাই ঝর্ণা, দেখার মত তেমন কিছু ছিল না। উপর থেকে পানি গড়িয়ে নিচে পড়ছে। তা আমরা দেখতে পাচ্ছি না। বাতাসে কিছুটা পানি বৃষ্টির মত করে গায়ে এসে পড়ছিল। 



১৮ মার্চঃ আমাদের আজকের লক্ষ্য তাজিওডং এ উঠা। বাকলাই পাড়া থেকে তাজিওডং ৬-৭ ঘন্টা লাগবে। তাই আমরা সকাল সকাল রওনা হলাম। 


বাকলাই আর্মি ক্যাম্পঃ রাস্তায় আর্মি ক্যাম্প ছিল। সেখানে ফ্রেশ হওয়ার গেলাম। আর যতটুকু আতিথীয়তা পেলাম, তা সত্যিই ভুলার নয়। 


তাজিওডং এর চূড়াঃ অনেক রোঁদে পুড়ে আমরা যখনই  তাজিওডং এর চূড়ার খুব কাছাকাছি চলে এলাম, তখনই প্রচণ্ড বেগে বাতাস বয়তে শুরু করলো। সে এক অবিশ্বাস্য ভাললাগা। তাজিওডং এর চূড়ায় উঠলাম। উঠেই এত দিনের সব কষ্টগুলোকে সার্থক মনে হচ্ছিলো। আমরা একদম মেঘের সাথে লেগে যাচ্ছিলাম। প্রচন্ড বাতাস আমাদেরকে পারলে উড়িয়ে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরেই বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো। বৃষ্টি আর বাতাস, অসম্ভব রকম ভাললাগা কাজ করছিল তখন। কিন্তু এটা খুব বেশিক্ষণ দীর্ঘস্তায়ী হল না। বৃষ্টিতে পাহাড়ের ঢালু রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। তাই আমাদেরকে সেখান থেকে নেমে আসতে হয়। কিন্তু যতক্ষণ ছিলাম তাজিওডং এর চূড়ার উপর, তা হয়তো অন্য কোন অনুভুতির সাথে তুলনা করা যাবে না। 


শেরখর পাড়াঃ বৃষ্টিতে ভিজে ভিজেই আমরা পাহাড় থেকে নামলাম। নেমে শেরখর পাড়ায় আশ্রয় নিলাম আজকের দিনের জন্য। সন্ধ্যায় গানের আসর বসলো। দুর্জয় শুরু করলো গান আর তা পুরো পরিবেশটাকে মুখোর করে তুলল। 


১৯ মার্চঃ আজ আমারা থানচি হয়ে বান্দরবান শহরে বেক করবো। তাই রওনা হলাম। আজকের রোঁদটা একটু বেশিই। আর পাহাড়ও অনেক বেশি খাঁড়া এবং উঁচু। প্রায় ১০-১২ টা খাঁড়া খাঁড়া পাহাড় পাড়ি দিয়ে আমাদের থানচি পৌঁছাতে হয়েছে। আজকের জার্নিটা অনেক বেশি দীর্ঘ লাগছিলো ( প্রায় ৬-৭ ঘন্টা) এত দিনে শরীর তো পুড়ে কালো হয়ে গিয়েছিলোই, তার উপর আজকের এই প্রচন্ড রোঁদে পুরোপুরি জংলী মানব হয়ে থানচি পৌঁছালাম। 


থানচিতে ৫ মিনিটের মত থেকেই বাস ধরার জন্য বের হয়ে যেতে হয়েছে। বাসে করে আমরা বান্দরবান শহরে পৌঁছালাম। পথোমধ্যে নিলগিরি,চিম্বুক আর শৈলপ্রপাত দেখে গেলাম। থানচি থেকে বান্দরবান আসার পথটা ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু রাস্তা। আর সেই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় যে ভুবন ভুলানো দৃশ্য দেখলাম, তা সত্যি মনে রাখার মত। 


২০ মার্চঃ আজই বান্দরবানে আমাদের শেষ দিন। আজ স্বর্ণমন্দির দেখেই রওনা হবো। মন্দিরটা ছিল দেখার মত। সোনালী রঙে রাঙ্গা ছিল মন্দিরের চারপাশ। 


আমাদের বন্ধুরাঃ আবীর, দুর্জয়, সজীব, সাদি, একরাম, অর্ণব এবং আমি 


শিক্ষাঃ এই ট্যুর থেকে অনেক কিছু শিক্ষণীয় আছে। দেশের প্রতি ভালবাসার একটি জ্বলন্ত উদাহরন আমরা দাঁড় করাতে পারি। 


কিছু কথাঃ মানুষের জীবন কতটা কষ্টের হতে পারে, তা এই বান্দরবান না আসলে অনেকটায় বোঝার সাধ্যের বাইরে থেকে যেত। আর গ্রামগুলো পুরোই ছবির মত। এই রকম সৌন্দর্য বিশ্বের আর কোথাও আছে কিনা সন্দেহ আছে। 


অতিরিক্তঃ পানি পিপাসা এবং ক্ষুদা কি জিনিস, তা উপলব্ধি করতে হলে বান্দরবান অবশ্যই অবশ্যই একবার গিয়ে ঘুরে আসবেন। 


আরো অনেক কিছু লেখার ছিল। কিন্তু লিখলাম না। কিছু কথা নিজেদের স্মৃতির পাতায় আগলে রাখলে মন্দ হয় না। 
ফোটো কার্টেসিঃ অর্ণব বনিক ( অসাধারণ ফটোগ্রাফার )

বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

কল্পলোকের কল্পকথা

রাসেল।। ভার্সিটিতে পরিচয়। অনেক ভাল মনের একটা ছেলে। আর ভাল মনের মানুষজন তার চারপাশের মানুষগুলোকে খুব সহজে আপন করে নেয় এবং তাদের মধ্যে ভালোর বীজ বপন করে দেয়। সেই ক্ষেত্রে তার আশে-পাশের মানুষগুলোকেও ভাল বলা যায়। এই সূত্র ধরলে আমিও ভাল মানুষের কাতারেই পরি। কারনটা বলতে গেলে,রাসেল ছিল আমার ভার্সিটি লাইফের সব চেয়ে কাছের বন্ধু। অর সাথে আমার লাইফের এমন কোন অধ্যায় নেই,যা শেয়ার করা হতো না। অর ক্ষেত্রেও একই, অর জীবনের প্রতিটি ঘটনার সাথে আমি পরিচিত। 


আজ চার বছর পর শপিং করতে গিয়ে হঠাৎ ই অর সাথে দেখা হয়ে যায়। সাথে ছিল ভাবী আর একটা ফুটফুটে মেয়ে, অবিকল পুতুলের মত। তাই হয়ত সখ করে বাবা-মা পুতুলের মত মেয়েটির নাম রেখেছে পুতুল। অনেক আহ্লাদ করে তাকে, রাসেলের মুখ থেকে পুতুল-সোনা নামে ডাকতে শুনলাম। কত আদর করেই না বাবা-মা তাদের সন্তানদের ডাকে। হয়তো সন্তানরা তা উপলব্ধিও করতে পারে না। 


৪ বছর আগে ফিরে গেলাম এক পলকেই।।। সদা হাসি-খুশি থাকা রাসেলটা কেমন যেন ক্লাসে গোমড়া মুখ করে বাসে থাকত। কাউকে কিছুই বুঝতে দিত না। কেন যেন অকে অনেক বেশি চিন্তিত লাগছিল কিছুদিন যাবত। তাই আমি আর দেরী সয়তে পারলাম না। অই পিরিয়ড শেষ হতেই কেফের সামনে নিয়ে অর কাছে কি হয়েছে অর,তা জানতে চাইলাম। ও নাছোড় বান্দা কিছুতেই মুখ খুলতে রাজি না। এই অজুহাত, সেই অজুহাত দেখিয়ে প্রসঙ্গটা পাল্টাতে চাচ্ছিলো। আমিও কম যাই না। আমার মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি খেলে গেলো, আমি বললাম দোস্ত,ঠিক আছে বলতে হবে না। যাইরে দোস্ত,তোকে অনেক আপন ভাবতাম, কিন্তু আসলে আমি মানুষ চিনতে ভুল করি। এই বলে যেই, পা বাড়ালাম সামনের দিকে, তখনই পিছন থেকে রাসেলের ডাক, এই তুষার কোথায় যাচ্ছিস,দাঁড়া বলছি। আমি তো মহা খুশি। ভাবলাম আমার ডোজে কাজ হয়েছে। আমি অনেকটা মন খারাপের ভান করে দাঁড়িয়ে রইলাম। পাশে এসে রাসেল আমাকে একটা ঘুসি দিয়ে বলল, আমার না বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখ কলির সাথে। আমি অকে ফিরতি একটা ঘুসি দিয়ে বললাম,এই খুশির খবর বলতে তোমার এত গা জ্বলে কেন? বজ্জাত ছেলে। দাঁড়া সবাইকে জানিয়ে দিচ্ছি। এই বলে দিলাম একটা দৌড় ক্লাসের দিকে। আর পিছন থেকে রাসেল চিৎকার করে বলতে লাগলো, খবরদার কাউরে বলবি না। তাহলে কিন্তু আমার ইজ্জতের ফালুদা হয়ে যাবে। 


সেই বছরের অক্টোবর মাস।।। লেভেল-৪ এর টার্ম-২ শেষ হল, কিছু দিনের জন্য হলেও পড়ালেখা স্তগিত। বাকী পড়ালেখা দেশের বাইরে থেকে করতে হবে। রাসেলকে ইদানীং খুব বেশি রকম উৎফুল্ল দেখাচ্ছে। সামনেই যে অর বিয়ে, তাও আবার অর ভালবাসার মানুষটার সাথে। 


কলির সাথে রাসেলের দীর্ঘ ৪ বছরের প্রেম। ভার্সিটির প্রথম লেভেল থেকেই অর সাথে কলির সম্পর্ক। কলি হোমইকোনমিকস কলেজে প্রথম বর্ষের ছাত্র। আর রাসেল যেহেতু বুয়েটে পড়ে তাই তাকে আজিমপুরে শিফট করতে হয়। কলিদের বাসা আর রাসেলদের বাসা কাছাকাছি হওয়াই প্রায়ই অদের দেখা হতে থাকে, এর পর তা ভাললাগা থেকে কবে যে ভালবাসায় রুপ নেয় তা কারোরই জানা নেয়। 


জানুয়ারি মাস।।। জোরে সোরে বিয়ের শপিং করা শুরু হয়ে গেছে। রাসেলের তো দেখা পাওয়াই যেন, আকাশের চাঁদ কাছে পাওয়ার মত। বেচারা ব্যস্ততা আর কাজের চাপে একদমই শুকিয়ে যাচ্ছে। কলিকেও তেমন সময় দেয় নে শয়তানটা। একদিন কলি ফোন দিয়ে অর নামে কত অভিযোগ করল!!! 


জানুয়ারি ৩০ তারিখ।।। আজিমপুরের ব্যস্ত রাস্তা ধরে হাটছিল কলি। কি এক কাজে যেন কলেজে আসতে হয়েছিল। বাসায় ফিরেছে, রাস্তা পাড় হতে গিয়েই বেচারির জীবনের সব চেয়ে কালো অধ্যায়ের সূচনা হল। কোত্থেকে যেন একটা মাইক্রো এসে ঠোকে দিয়ে গেল তাকে, আর সাথে সাথে তার ভাগ্যে রেখে গেল নির্মম কিছু পরিহাস।


ফেব্রুয়ারি ২ তারিখ।।। ঘুম ভাঙল কলির। ঘুম কিনা বলতে পারছে না। মাথায় প্রচণ্ড ব্যাথা। মাথা টা কোন মতে কাত করে তাকিয়ে দেখলো,তার হাত ধরে মা বসে আছে। মনে হচ্ছে জনম-জনম ধরে আগলে রেখেছে থাকে। মেয়ের চোখ খুলতেই মার মুখে হাসি ফুটে এলো। কলি কিছুতেই তার পা দুইটা নাড়াতে পারছে না। কি যেন তার পায়ে ভর দিয়ে রেখেছে। মনে হচ্ছে একটা পাহাড় সমান বোঝা তার পায়ে কেউ চেপে রেখেছে। ব্যাথাটা আরেকটু প্রখর হওয়াই আবারও ঘুমিয়ে পড়ল কলি। 


ফেব্রুয়ারি ২,বিকাল ৫ টা।।।কলি বুঝতে পারল যে তার ভাগ্যে আর বিয়ে লেখা নেই। তার ডান পাটা ঐ দুর্ঘটনায় দারুন ভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় হাটুর নিছ থেকে কেটে ফেলতে হয়। সে জানে যে,তাকে বাকিটা জীবন পঙ্গু হয়েই বাচতে হবে। চোখের কোটলি থেকে কয়েক ফোটা জল গড়িয়ে পরতে দেখা গেলো। 


ফেব্রুয়ারি ৪।।। রাসেলদের বাসা থেকে তার মা এসে কলিকে দেখে যায়। আর যাওয়ার সময় বলে যায়, রাসেল আর কলির বিয়ে হওয়া এখন আর সম্ভব না। এই বলেই রুমের বাইরে পা বাড়িয়ে চলে গেলো। কলি মার হাতটা অসহায়য়ের শক্ত করে আঁকড়ে ধরলো। কিছু যেন তার মনটা বলতে চাচ্ছে, কিন্তু মুখ ফুটে বলতে পারছে না। হয়ত বলতে চাচ্ছে, মা এর চেয়ে মরে গেলেই হয়তো ভালো হতো। 


ফেব্রুয়ারি ১৪।।। খুব সকাল রাসেল হসপিটালে। মা খাবার আনার বায়না করে বাইরে চলে গেছে। রাসেলকে দেখে কলি খুব খুশি হয়ে কান্না কান্না কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো, কেমন আছো তুমি? নতুন বউ দেখতে কেমন? নিশ্চয় অনেক রূপবতী। তোমার বিয়ে হয়ে গেলে না,নতুন বউটাকে আমার কাছে নিয়ে এসো, আমি অকে একটু আদর করে দিবো। সে না খুব বেশি লাকি হবে। আর শোন, তোমাকে না কখনই একটা কথা বলি নি, আর হয়তো বলার সুযোগ হবে নাহ, তুমি না অসম্ভব রকম ভাল একটা ছেলে,অনেক বেশি কেয়ারিং। তোমার বউটাকে সুখে রেখো। এই কথাগুলো বলতে বলতে গাল বেয়ে বেয়ে অশ্রুর ফোটা বেয়ে পরে বিছানা ভিজে গেছে। রাসেল এতক্ষণ পর মুখ খুলল, পাগলী তোমার কি সব কথা বলা শেষ? শেষ হয়ে গেলে তারাতারি উঠো, রেডি হতে হবে না? তুমি না রেডি হলে আমাকে বিয়ে করবে কে? তখন কিন্তু রাস্তা থেকে মেয়ে ধরে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করতে হবে। রাসেলের কথাগুলো বুঝতে কলির মনে হয় একটু বেশিই সময় লেগে গেল। সে রাসেলকে বলল, এই তুমি কি আমাকে একটা বার চিমটি কাটবা? রাসেল তার পাগলীর গায়ে জোরে চিমটি কেটে বলল, কি স্বপ্ন দেখছো নাতো? 


রাসেল তাকে গাড়ি করে বাসায় নিয়ে যাচ্ছে। আজ যে অদের বিয়ে। শক্ত করে রাসেল কলির হাতটি ধরে কানের কাছে ফিসফিস করে বলছে, মনে আছে পাগলী, তুমি বলেছিলে তোমার হাতটা কখনো না ছাড়তে, আমি না ছাড়ি নি। কখনো ছাড়বোও না। আই লাভ ইউ পাগলী। 



অই তুষার, কি ভাবতেছিস? আচমকা রাসেলের কন্ঠ কানে আসলো। কিছু না দোস্ত। কেমন আছিস? -ভাল আছি রে। তুই কেমন আছস? -আমিও ভাল আছি দোস্ত। তোর তো কোন খবরই নাই। ভাবীকে নিয়ে কবে দেশে ফিরলি??? -এই তো দোস্ত খুব বেশি দিন না,মাস খানেক হবে। জানিস,তোর ভাবীর পা না ঠিক হয়ে যাবে, লেগ ট্রান্সপ্লান্টের মাধমে। আমার স্পেনের কিছু ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ হইছে। ওখানে নাকি প্রথমবারের মত সফল ভাবে লেগ ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন হয়ছে। -হাসি ভরা মুখে আমি বললাম, অনেক খুশির খবর শুনালি দোস্ত। আর ভাবী আমি অত্যন্ত দুঃখিত এতক্ষণ আপনার সাথে কথা না বলার জন্য। কেমন আছেন ভাবী? -এইতো ভাইয়া,ভালো আছি। আপনি সময় পেলে কিন্তু বাসায় চলে আসবেন। আমাদের জন্য না হলেও আমাদের এই পুতুলটার জন্য হলেও অন্তত একবার আসবেন। -আচ্ছা ভাবী,অবশ্যই আসবো। আপনি না বললেও আসবো। পরে আবার যেন না শুনতে হয়, এত ঘন ঘন কেন আসি? :D -না ভাইয়া,তা কেন হবে, এই কথা কখনোই আপনাকে শুনতে হবে না, আসবেন কিন্তু বাসায়। -আচ্ছা ভাবী,আসবো। আর রাসেল শোন, ভাবীর আর তোদের পুতুলটার যত্ন নিস। যাই রে দোস্ত, পরে কথা হবে। 


যেতে যেতে পেছনে ফিরে তাকালাম, রাসেল দিব্যি খুশি মনে হুইল চেয়ার ঠেলে ঠেলে বেরাচ্ছে, আর ভাবীজান এক দোকান থেকে আরেক দোকানে তার পুতুলটার জন্য জামা-কাপড় দেখেই যাচ্ছে। 


[ একটি সত্য কাহিনী নিয়ে গল্পটি লিখা, তবে কিছুটা কাল্পনিকতার মিশ্রণে ] 


উৎসর্গ- আমার ভার্সিটির বন্ধু রাসেলকে। ও অনেকদিন যাবত বলছিল, দোস্ত তুই তো লেখা-লেখি করছ, আমার নাম দিয়ে একটা গল্প লিখ না, আর পারলে মেয়েটার (নায়িকার) নাম দিস কলি। দিয়ে দিলাম দোস্ত। খুব বেশি সময় করতে পারি না তো, তাই লেখা-লেখি করার সখ থাকার সত্ত্বেও তেমন ভাবে করা হয়ে উঠে না। তবে এটা বলে রাখা ভাল যে গল্পের কাহিনিটা আমার বন্ধুর (রাসেলের) না, তা না হলে- পরে আবার অকে অনেক কথা শুনতে হতেও পারে ;) 


শুক্রবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১২

সত্যিই কি গল্প? নাকি অন্য কিছু?




[লেখাটাকে গল্প বলা যাবে না, একটি জলজ্যান্ত মানুষকে নিয়ে লেখা কথাগুলো সত্যিই কি গল্প? নাকি অন্য কিছু? আমার জানা নেই। লেখাটিতে আমার এবং আমার একটা ভাইয়ার কথোপকথন উপস্থাপিত হল।]

-কেমন আছো ভাইয়া? [আমার ভাইয়া]
-এই তো ভালো আছি,তুমি কেমন আছো? [আমি]
-আমি ভাল নাই ভাইয়া।
-কেন ভাইয়া? কি হইছে তোমার?
-কিছু না,একটু অসুস্থ।
- হঠাৎ করে অসুখ বাঁধলো কি করে?
-জানি না ভাইয়া, কাল না ভার্সিটির ফার্স্ট সেমিস্টারের রেসাল্ট দিছে আর আমি না ফেল করেছি।
-ভাইয়া এই ব্যাপার নিয়ে মন খারাপ করে থাকতে হয় না, বা এত সিরিয়াস হওয়ারও কিছু নেই। বোকা ছেলেরা পরীক্ষার ব্যাপার নিয়ে মন খারাপ করে। আর তুমি তো অনেক ভালো ছেলে ভাইয়া। তাই মন খারাপ করো না ভাইয়া।
-ধন্যবাদ ভাইয়া। আমার না বিগত কিছু দিন যাবত প্রচণ্ড জ্বর আর মাথায় খুব যন্ত্রণা করে।
-তাহলে এক কাজ করতে পারো।
-কি কাজ ভাইয়া?
-বিছানা ছেড়ে, একটু বাইরের আলো বাতাস খেয়ে আসতে পারো। দেইখো মন,শরীর সব ভাল হয়ে যাবে।
-আমি বেশির ভাগ সময় বাইরে কাটাই।
-তাহলে তো বেশ ভালো ভাইয়া। আজও বাইরে যাও, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে আসো, মন ভাল হয়ে যাবে, আর এক্সাম নিয়ে কখনো এত সিরিয়াস হতে হয় না বোকা ছেলে।
-আমার এই যন্ত্রণা নতুন না, প্রায় দুই বছর। আর আমি এক্সাম নিয়ে এত টেনশন করি না।
-ওহ,তাহলে?
-আমার ভালবাসার মানুষটা না আমার সাথে প্রায় ১৫ দিন আমার সাথে দেখা করে না। আমি ওকে খুব মিস করছি।
-তাহলে আজ দেখা করে আসো ভাইয়া, তাহলেই তো হয়।
-ও না খুব রেগে আছে, আর ও রাত ছাড়া দেখা করে না।
-তাহলে রাতেই দেখা করবা, আর রাগ ভাঙানোর জন্য ওকে একটা গান শোনাতে পারো ফোন দিয়ে।
-আমি একদিন ঘুমাই নাই, তাই ও রাগ করছে। জানো ভাইয়া, ও না ফোন ইউস করে না। ওর সাথে শুধু দেখা হয় আর কথা হয়।
-ও কি করে ভাইয়া?
-ও না কিছু করে না,শুধু আমাকে ভালবাসে। জানো ও না অনেক ভাল।
-ওহ,পড়ালেখা?
-ও এস এস সি দিছে, কিন্তু ইন্টার দিতে পারে নাই।
-আজ গিয়ে ওর সাথে দেখা করে আসো।
-ওর সাথে শুধু আমার ঘুমের মধ্যে দেখা হয়। ও তো আর নাই।
-নাই !!! -আছে,শুধু আমার মাঝে।
-কি হইছে ওর?
-হঠাৎ ঘুরে পরে মাথা ফেটে যায়।
-ও এখন কোথায়??? !!!
-ও তো এখন আল্লাহ্‌র কাছে। জানো ভাইয়া, ও না আমার খুব কেয়ার নেয়। তখন ১১ নভেম্বর ২০০৯ সাল।। আমাদের গ্রামের ৫-৬ গ্রাম দূরে ওদের গ্রাম। একদিন দুপুরে পুকুরে গোসল করতে গেল। পুকুর ঘাটে পা পিছলে পড়ে মাথা ফেটে গেল। এরপর আর কিছু বলল না। দুইবার আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলল। জানো ভাইয়া আমি না ওকে শেষ দেখাটাও দেখতে পারি নি। জানো ভাইয়া, ও ছিল অন্য রকম। ও খুব আহামরি ছিল না, কিন্তু আমার ফ্যামিলির খোঁজ-খবর নিত।
-ভাইয়া মন খারাপ করে না, ভাল ছেলেরা অনেক স্ট্রং হয়। আর তুমি তো অনেক ভাল ছেলে ভাইয়া।
-ভাইয়া আমি কোথায় মন খারাপ করলাম? ওই তো আমার উপর রাগ করে আছে। ১৫ দিন তো এই জন্যই আমার ঘুম হয় না। 

[এরপর আর আমার কথা বলার সাহস ছিল না, ওকে বিদায় জানিয়ে চলে আসলাম। একটা মানুষ অন্য আরেকটা মানুষকে কতটা ভালবাসতে পারে, আমার জানা নেই। তবে আজ আমি ভালবাসাটাকে অনেক কাছ থেকে জানতে পারলাম। সবাই সবাইকে অনেক ভালবাসুক, কারো জীবনটা যেন এমন কস্টের না হয়।]

উৎসর্গ-আমার সেই ভাইটাকে, যে কিনা আমাকে আজ নতুন করে আবার ভালবাসার মানে শিখিয়ে দিল।

বৃহস্পতিবার, ১২ জানুয়ারি, ২০১২

কিছু অব্যক্ত রচন

মাঝরাত,
নিরকাশ কালো আঁধারে
আচ্ছন্ন স্বপ্নিল ভুবন।
তাড়া করে কিছু অতীত স্মৃতি,
না বলা কিছু অব্যক্ত রচন।

কিছু পুরনো কবিতা
কিছু পুরনো গান-
সবই আগের মত
স্মৃতির পাতায় অম্লান।

তবু বদলে গেছি আমি
নির্মম সত্য এই,
আলো জ্বেলে পথপানে
প্রতীক্ষা আর নেই।

বুধবার, ১১ জানুয়ারি, ২০১২

কিছু উক্তি

মানব মন মাঝেমধ্যে কিছু অদ্ভুত কান্ড ঘটায়। তার মধ্যে একটি হলো বলা নেই কওয়া নেই হুট করেই প্রেমে পড়ে যায়।


একজন ভাল মানুষ হবার জন্য আপনার মধ্যে দু'টি গুনাবলী অবশ্যই থাকা দরকার। প্রথমত- ভাল মন, দ্বিতীয়ত- সেই মনের নিয়মিত পরিচর্যা।


ভালবাসা মাপার জন্য বিজ্ঞানীরা এই পর্যন্ত কোন মাপকাঠি বানাতে পারে নি। যদি পারত তাহলে সেখানে প্রথম স্থানে থাকতো "মা" নামের নিঃস্বার্থ মহিলাটি।


অন্ধকার মানুষকে তার স্বরুপ চিনিয়ে দেয়, জাগতিক মিথ্যা-অভিনয়ের মুখোশ খুলে নিয়ে তাকে দাঁড় করিয়ে দেয় স্বরুপের সম্মুখে।


মন জিনিসটা ভীষণ রকম অদ্ভুত। মন আমাদের হওয়া স্বত্তেও এর উপর কোন নিয়ন্ত্রণ নেই আমাদের।


যার অপেক্ষা প্রচন্ড ঝড়ের, এক পশলা বৃষ্টিতে তার মন ভরে না।


আকাশে চাদঁ উঠলে যেমন তা লুকিয়ে রাখা যায় না, তেমনই নতুন প্রেমে পড়লেও শত চেস্টার পরও লুকিয়ে রাখা সম্ভব না।


মৃত্যু নিয়ে আমাদের ভয়টা সব সময়কার। ভয়টা আসলে মরে যাবো তা নিয়ে নয়, ভয়টা হলো জবাবদিহি করার- পৃথিবীতে যত পাপ করেছি তার জবাবদিহি।


কোন জিনিস না পাওয়া পর্যন্ত সেটার প্রতি অন্য রকম এক আকর্ষণ কাজ করে। কিন্তু জিনিসটার যত কাছাকাছি যাওয়া হয়, জিনিসটার প্রতি আকর্ষণ ধীরে ধীরে তত কমতে থাকে।


অর্ধ চাদঁ জিনিসটা কেমন যেন! চোখের সামনে পড়লে নিজেকে অপূর্ণ মনে হয়। তখন ইচ্ছে জাগে নিজেকে পূর্ণ করার।


চোখের জল সবচেয়ে পবিত্র জিনিসের মধ্যে অন্যতম। তাই এটাকে সব সময় লুকিয়ে রাখতে হয়, নয়তোবা যে কেউ দেখে ফেললে অপবিত্র হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে।



প্রতিটি মানুষই অপূর্ণ; আর এই অপূর্ণতাই আমাদের মাঝে পূর্ণতাকে কাছ থেকে দেখার আখাঙ্খা সৃষ্টি করে। আমরা যতটা পূর্ণতার কাছাকাছি পৌঁছাই, নিজেকে ততটাই অপূর্ণ মনে হতে থাকে।
পূর্ণতা আর অপূর্ণতা, একটি বৃত্তাকার গন্ডির বাইরে কিছুই নয়।




নিজের জন্য কিছু করায় যতটা প্রশান্তি পাওয়া যায়, তার চেয়ে হাজার গুন বেশি প্রশান্তির ছোয়া পাওয়া যায় অন্যদের জন্য কিছু করলে; বিশেষ করে অসহায় কারো জন্য।


ভালবাসার জন্য অফুরন্ত সময়ের প্রয়োজন হয় না, এক চিলতে রোদ কিংবা এক ফালি জোসনা গায়ে মাখার সময়টুকুতেও একটি পরিপূর্ণ ভালাবাসার অধ্যায় রচিত হতে পারে।


মাঝে মাঝে মাথার ভেতরটা শুন্য হয়ে যায়, কেমন যেন খালি খালি লাগে। মনে হয় মাথার ভেতর কি যেন নেই, কি যেন নেই ! তখন সব কিছুতেই অসহ্যভাব চলে আসে। কেউ ভাল ভাবে কিছু বললেও বিরক্ত লাগে তা শুনতে। বড়ই অদ্ভুত সময় সেটা।

হাত বাড়ালেই যাকে পাওয়া যায়, হাত ছেড়ে দিলেই কিন্তু সে বহুদূরে চলে যায়।


চোখ বন্ধ রাখলেই কেউ অন্ধ হয়ে যায় না। আমরা সবই দেখি এবং দেখেও না দেখার ভান করি কিংবা চোখ বন্ধ করে ফেলি। আমরা বাঙ্গালী, চোখের সামনে ঘটতে থাকা অন্যায় দেখেও আমরা তা না দেখার ভান করে পাশ কাটিয়ে যেতে মাহির।


প্রতিটি মানুষই খোলস দ্বারা আবৃত থাকে। কেউ কেউ সেই খোলস থেকে বের হয়, আবার অনেকে সারাজীবন চেষ্টা করেও খোলস থেকে বের হতে পারে না বা হয় না। আর এজন্যই মানুষকে বুঝা সবচেয়ে কষ্টসাধ্য। তবে যারা খোলস ছেড়ে বাইরে আসে তাদেরকে বুঝা অনেকটাই সহজসাধ্য; ব্যাপারটা পানি দিয়ে চিনি গুলীয়ে শরবত খাওয়ার মতো।


কেউ জেনে শুনে আগুনে ঝাপ দিতে চাইলে তাকে আটকানোর দরকার নেই, কিছুক্ষণ পর সে নিজেই ওখান থেকে বের হবার জন্য মরিয়া হয়ে উঠবে।


ভালবাসার মানুষটির অবহেলা সহ্য করার ক্ষমতা বিধাতা আমাদের দেয় নি।


বেঁচে থাকার জন্য শুধু শ্বাসপ্রশ্বাসই যথেষ্ট নয়। দরকার একটি গাছের, যা কিনা প্রতিদিন আপনাকে ঠিক সেই পরিমাণ অক্সিজেন সরবরাহ করবে, যা দিয়ে প্রশান্তির শ্বাস নেওয়া যায়।


দাত বের করে হাসলেই কিন্তু হাসি সুন্দর হয়ে যায় না, কারো কারো দাত কিন্তু হলুদ কিংবা ফোকলা থাকে। তেমনি বাইরের রূপ দেখেই মানুষ চেনা যায় না, কেননা অনেক সময় তার ভেতরে কুচকুচে বিষাক্ত কালো সাপও বাস করে।


রাত যত গভীর হয়; অশরীরী আত্মা, ভূত-প্রেত, জ্বীন ততো নিকটে আসে।


শকুনের চোখ আর প্রেমিকার চোখ সমতুল্য; দু'টিই সাঙ্ঘাতিক তীক্ষ্ণ।


আমরা হচ্ছি পেট মোটা জাতি, যা পাই তাই পেটে পুরে দিতে চাই।


উড়ে যেতে ইচ্ছে হলেই উড়ে যাওয়া যায় না, কিছু থাকে যা উড়তে গেলেই নিচ থেকে টেনে ধরে রাখে।


প্রতিটি প্রেমিক পুরুষের দিনের অর্ধেকটা সময় শুধু এই ভেবেই নস্ট হয়- আজ কিভাবে তার প্রেয়সীর মন রক্ষা করবে, পাছে তার দিনের পাশাপাশি রাতের ঘুমও হারাম না হয়ে যায়।



গরম গরম জিলাপি খাওয়ার স্বাদ যেমন, প্রেমিকার কাছ থেকে বকা খাওয়ার স্বাদটাও তেমন।

বেঁচে থাকার খাতিরে জীবনে কমপক্ষে একটা প্রেম করা প্রতিটি মানুষের উচিত। যারা প্রেম নামক জিনিসটা থেকে বঞ্চিত তারা অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত।


বড় মনের মানুষরা কাউকে নিচু মনে করে না; বরং নিচু মনের মানুষরাই অন্যদের নিচু মনে করে।
---ক্ষণিকের আগুন্তুক 


মানুষের জীবন অনেকটা শুঁকিয়ে যাওয়া নদীর মত। উত্থান পথন, ভালবাসা, দুঃখ-কষ্ট, সুখ এবং পরিশেষে মৃত্যু।
 
---ক্ষণিকের আগুন্তুক 


জীবনটাকে খুব কাছ থেকে দেখার চেষ্টা করো, কারন সেটা একবার চলে গেলে পরে আফসোস করেও ফিরে পাবে না।
  ---ক্ষণিকের আগুন্তুক  

ভালবাসার সাথে কিছুটা আদর মিশলেই তাকে প্রেম বলে।
  ---ক্ষণিকের আগুন্তুক  

যে পাখি উড়ে যেতে চায়, তাকে উড়ে যেতে দাও। কেননা তার ফিরে আসার থাকলে, দিন শেষে সে তোমার নীড়েই ফিরে আসবে।
  ---ক্ষণিকের আগুন্তুক  

কেউ চলে যেতে চাইলে তাকে যেতে দিতে হয়, কেননা কাউকে জোড় করে নিজের সাথে জড়িয়ে রেখে কষ্ট দেওয়ার কোন অধিকার আমাদের নেই।
  ---ক্ষণিকের আগুন্তুক  

নতুন কারো আগমন জীবনের স্বাভাবিক গতিপথটাকে অনেক খানি বদলে দেয়। অনেক সময় আপনজনকে পর হতে দিতেও সংকোচ হয় না। তাই নতুন কাউকে জীবনে আনায়নের পূর্বে একবার নয়, শ'বার নয়, হাজার বার ভেবে নেওয়া উচিত।
  ---ক্ষণিকের আগুন্তুক  

মাঝে মাঝে নিজের কষ্টগুলোকে নিজেকেই শান্ত করতে হয়। তা না হলে সেই কষ্টগুলো জমে জমে অনেক বড় 
 আকার ধারন করতে পারে। -- ক্ষণিকের আগুন্তুক ( অঝর শ্রাবণ ধাঁরা)  

সত্যিকারের বন্ধুরা কখনো কোন কারনেও নিজের বন্ধুদের বিপদে ফেলে না, যদিও সে বিপদে পড়ুক। 
--- ক্ষণিকের আগুন্তুক (অঝর শ্রাবণ ধাঁরা ২য় পর্ব) 

মানুষের স্বভাবসুলভ প্রকৃতি হচ্ছে অন্যের জিনিসকে নিজের ভাবা এবং নিজের মনে করে তার কাছ থেকে সব কিছু পাবার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করা। মানব জাতি সত্যি বড়ই অদ্ভুত!!!
  ---ক্ষণিকের আগুন্তুক  

তুমি কাউকে ভালবাসো, সেটা কি করে বুঝবে??? 

যখন তুমি অনুভব করবে যে, কারো কথা ভাবতেই তোমার শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, সেটাই ভালবাসা।  ---ক্ষণিকের আগুন্তুক  

জীবন তোমাকে অনেক কিছু শিখাবে। যদি তুমি তা গ্রহণ করতে পারো, তাহলে তুমিই শ্রেস্ট মানব-মানবী।
---ক্ষণিকের আগুন্তুক   


জগতে এমন লোক খোঁজে পাওয়া মুশকিল, যার বৃষ্টি ভাল লাগে না। যদি এমন কাউকে পাওয়াও যায়, তাহলে ভাবতে হবে তার মধ্যে আবেগ বা অনুভূতির ঘাটতি রয়েছে।
 ---ক্ষণিকের আগুন্তুক  

নিজেকে বুঝা হচ্ছে সবচেয়ে কঠিন কাজ। আর যদি কেউ দাবী করে যে, সে নিজেকে পুরোপরি বোঝে, তাহলে বুঝতে হবে- পাগলের রাজ্যের সবচেয়ে উপরের শিখরে তার অবস্থান।
 ---ক্ষণিকের আগুন্তুক  

মানুষের অনুভূতিগুলো ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, এমনকি লিখেও না। কিছু কিছু বিষয় স্রষ্টা আমাদের নিজেদের মধ্যেই রেখে দিয়েছেন, যা প্রকাশের কিনা কোন মাধ্যমই নেই।
---ক্ষণিকের আগুন্তুক  

পৃথিবীতে সবচেয়ে কঠিন কাজের মধ্যে একটি হচ্ছে "মানুষ চেনা", যারা এটা ঠিক মত করতে পারে, তারাই সবচেয়ে সুখি আর পক্ষান্তরে যারা এর বিপরীত, তাদের দুঃখ পাহাড় ভেদ করে ঝর্ণার জল পড়ার চেয়েও বেশি কষ্টের।
---ক্ষণিকের আগুন্তুক 
 

যাদের মধ্যে কৃতজ্ঞতাবোধ নেই, তাদের প্রকৃত মানুষ বলা চলে না। আর সে যদি লেখক হয়, তাহলে তো কথাই নেই। 
---ক্ষণিকের আগুন্তুক 
 

যাকে ভালবাসা যায়, তার জন্য এত কিছু করেও কেন যেন মনে হয় কিছুই করে নি অফুরন্ত ভালবাসার উদাহরনটা বুঝি এমনই ---ক্ষণিকের আগুন্তুক 

কাউকে না পাওয়া পর্যন্ত, তাকে হারানোর কোন ভয় থাকে না কিন্তু যদি একবার তাকে পাওয়া হয়ে যায়, তবে তাকে হারানোর ভয়টাই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়
---ক্ষণিকের আগুন্তুক 

জীবনে যত বড়ই সমস্যা আসুক না কেন, কখনোই এর থেকে দূরে ভাগা উচিত হয় বরং সাহস করে সেই সমস্যার সামনাসামনি হয়ে, এর মোকাবেলা করাটাই বীরত্বের কাজ
---ক্ষণিকের আগুন্তুক 

ব্যস্ততা মানুষকে অনেক দূরে ঠেলে দেয়
---ক্ষণিকের আগুন্তুক 

স্বার্থ যেখানে কথা বলে,তার নাম হচ্ছে সম্পর্ক। যেখানে স্বার্থ শেষ হয়ে যায়, সেখানে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা বিদ্যমান।-- 
ক্ষণিকের আগন্তুক




যারা নিজেদের সুখি বলে বিবেচনা করে,তারাই সব চেয়ে ভালো অভিনেতা/অভিনেত্রী। সুখ কখনোই এত সহজে ধরা দেবার পাত্র নয়। সুখকে ছিনিয়ে আনতে হয়, এর জন্য দরকার দক্ষ অভিনয়ের।-- ক্ষণিকের আগন্তুক


ভালবাসা অনেকটাই রংধনুর ন্যায়। যতটা সহজে হরেক রঙা রঙে রাঙিয়ে দেয় তাকে,ঠিক ততটাই সহজে রংহীন,ফ্যাঁকাসে করে দেয় তার ভুবন !!! ।।। 
-- ক্ষণিকের আগন্তুক


জীবনটা আমাদের প্রতিদিনই নতুন নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন করে,কিছু প্রত্যাশিত,আর কিছু হয়ত খুব বেশি রকম অপ্রত্যাশিত।
-- ক্ষণিকের আগন্তুক

self-satisfaction is the best satisfaction...
---ক্ষণিকের আগুন্তুক


ভাল থাকার প্রবল ইচ্ছাই একজনকে ভাল রাখার জন্য যথেষ্ট। 
---ক্ষণিকের আগুন্তুক

সবাই সাধারন হয়েই জন্মায়। তাই নিজেকে অসাধারন ভাবার কিছু নেই। কেউ নিজেকে নিজে অসাধারন ভাবলে তার ধারনা ভুল, কেননা অসাধারন হতে হলে সর্বপ্রথম তাকে খুবই সাধারন হতে হবে। 
---ক্ষণিকের আগুন্তুক


যখন খুব কষ্ট হয়, খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি, তাতে কষ্ট অনেকটা কমে যায়। কেননা আকাশ সেই জন্মলগ্ন থেকে একা দাঁড়িয়ে রয়েছে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম দেখেছে এই আকাশ, অনেকের অনেক কষ্ট প্রত্যক্ষ করে ঠাই দাঁড়িয়ে আছে। অনেকেকে রাতের অন্ধকারে আড়ালে কাঁদতে দেখেছে, ভরাক্রান্ত মনে জ্যোৎস্না পোহাতে দেখেছে অনেককে। আকাশ প্রতিটি মানুষের কষ্টকে নিজের করে নেয়, তাই আকাশের এতো কষ্টের মাঝে আমার কষ্ট খুবই ক্ষীণ মনে হয়। 
---ক্ষণিকের আগুন্তুক


সাফল্য সবসময় ধীরে ধীরে অর্জন করতে হয়। হঠাৎ চলে আসা সাফল্য, হঠাৎ করেই হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ---ক্ষণিকের আগুন্তুক


ভালবাসার মানুষটিকে ঠিক ততটাই ভালবাসতে হয় , যতটা ভালবাসলে তার কথা ভাবতেই নিজের অজান্তেই মুখে হাসি ফুটে আসে।
---ক্ষণিকের আগুন্তুক


প্রতিটি সম্পর্কই অনেক বেশি ভারী এবং প্রত্যেক মানুষকেই সম্পর্কের এই ভার বহন করতে হয়। যখন কারো কাছে এই ভার, বোঝা বলে মনে হয়, ঠিক তখন থেকেই সেই সম্পর্কে ফাটল ধরা শুরু করে...............।।
 ---ক্ষণিকের আগুন্তুক


"জগতে এক প্রজাতির মানুষ আছে, যারা কখনো কাঁদতে জানে না। খুব কষ্টেও তারা হাসতে পারে। একমাত্র তাদের চোখ দেখেই বুঝা যায়, কতটা কষ্ট তারা চেপে রেখেছে নিজের মাঝে।"
---ক্ষণিকের আ গুন্তুক


দুজন কপোত-কপোতীর মাঝে ভালবাসা ঠিক ততদিন স্থায়ী হবে, যতদিন তাদের 
একে অন্যের প্রতি একটি বিশেষ অনুভূতি কাজ করবে। সেই অনুভূতির নাম হচ্ছে রেসপ্যাক্ট (মর্যাদা)। --ক্ষণিকের আ গুন্তুক 


জীবন মানুষকে অনেক খেলা দেখাবে, যে সেই সব খেলাতে বিজয়ী হতে পারবে, সেই টিকে থাকতে পারবে..................।। 
--ক্ষণিকের আগুন্তুক


জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে প্রিয়জনদের কাছে পাওয়া, সত্যিই অসম্ভব রকম ভাল লাগার মত অনুভূতি সৃষ্টি করে।তাই সব সময় বাবা-মা, ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধবের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করুন, হয়তো সেই কাছে থাকাটা তাদের জন্য অকল্পনীয় ভাল লাগার অনুভূতি বয়ে নিয়ে আসতে পারে। 
-ক্ষণিকের আগুন্তুক 


কারো উপর ঠিক ততটা নির্ভরশীল হয়ে পরা উচিৎ না, যতটা হলে নিজের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। 
--ক্ষণিকের আগুন্তুক


আধুনিক কালের মানু্ষজন খুব বেশি ভুলোমনা। আজ আছেন, আপনার খুব সমাদার। কাল নেই, কেউ আপনার খবর নিয়েও দেখবে না। 
--ক্ষণিকের আগুন্তুক


যাকে ভালবাসা যায়, তাকে ঘৃণা করা যায়। কিন্তু যাকে নিজের চাইতে বেশি ভালবাসা যায়, তাঁকে ঘৃণা করা যায় না। 
 --ক্ষণিকের আগুন্তুক


পৃথিবীটা চলে স্বার্থের উপর। আপনি কি কাউকে স্বার্থ ছাড়া কাজ করতে দেখেছেন? যদি দেখে থাকেন, তাহলে ভাববেন, তাঁরা অতিমানব। 
--ক্ষণিকের আগুন্তুক


উড়ন্ত ঘুড়ির সূতা ছিঁড়ে গেলে, সেই ঘুড়ি ফিরে পাওয়া খুব কষ্টের হয়ে যায়। 
 --ক্ষণিকের আগুন্তুক


জীবনের সাথে সমঝোতা করে বাঁচার কোন মানে হয় না, জীবনটাকে জীবনের স্বাভাবিক গতিপথ অনুযায়ী চলতে দেওয়া উচিত।
--ক্ষণিকের আগুন্তুক 


একাকীত্ব মানুষকে মৃত্যুর দিকে এক ধাপ ঠেলে দেয়। 
--ক্ষণিকের আগুন্তুক


কেউ কারো জন্য অপেক্ষার প্রহর গোনে না, সব কিছুই জলজ্যান্ত ভ্রমের মত। --ক্ষণিকের আগুন্তুক 


ভালবাসার মধ্যে যদি কখনো যোগ্যতার প্রশ্ন চলে আসে, তবে সেই ভালবাসা তার স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলে। 
 --ক্ষণিকের আগুন্তুক


ভালোবাসার ক্ষেত্রে দূরত্ব বিষয়টি কোন বিষয়ই না।অনেক দূরে থেকে ও ভালোবাসার মানুষটির কাছাকাছি থাকা যায় এই ভালোবাসার জোরেই। 
--ক্ষণিকের আগুন্তুক


চোখ বন্ধ করুন, যদি চোখের সামনে আপনার ভালবাসার মানুষটির প্রতিকৃতি দেখতে পান! তাহলে জেনে নিন, আপনি তাকে ভালবাসেন না। সাময়িক মোহ বা ঘোর বা তন্দ্রায় রয়েছেন। মোহ বা ঘোর বা তন্দ্রার একটি নির্দিষ্ট পিরিয়ড বা অধ্যায় রয়েছে, এটা পাড় হয়ে গেলেই ভালবাসায় কমতি দেখা যাবে। 
 --ক্ষণিকের আগুন্তুক 


সময়ের সাথে আমরা বদলে যাই, শুধু পরে থাকে স্মৃতি মাখা কিছু মধুর কিংবা তিক্ত সময়। যা কিনা হয় আমাদের আনন্দ দেয় অথবা দেয় বিরহের অনল। 
--ক্ষণিকের আগুন্তুক


আমরা হয়তো নিজেকে সুখী হিসেবে গণ্য করি, কিন্তু দুঃখের খাতা নিয়ে বসলে, সুখের অধ্যায়টুকুকে বড়ই মলিন মনে হয়। 
 --ক্ষণিকের আগুন্তুক


ভালবাসা মধুর একটি অনুভূতি, কিন্তু এর মাঝে মাত্রাতিরিক্ত পাগলামি এসে পরলে এর স্বাদ তিক্ত হয়ে যায়।
 --ক্ষণিকের আগুন্তুক



ভালবাসা-বাসি মানুষ তিন প্রকার।


প্রথমত, মেয়ে ডমিন্যান্ট রিলেশন। এই ক্ষেত্রে ছেলেরা হয়-ভ্যাবলা হয়, নয় বোকা হয় নতুবা হাফ-মেল-হাফ-ফিমেল হয় (হাফ লেডীস), এই ধরনের রিলেশন কিছু দিন ভাল থাকলেও এর পরিণতি হয় বিচ্ছেদ দিয়ে। কারন মেয়েরা, মেয়ে-পাগল ছেলে কিছুদিন সহ্য করলেও সারা-জীবনের জন্য সহ্য করতে ইচ্ছুক হয় না।


দ্বিতীয়ত, ছেলে ডমিন্যান্ট রিলেশন। এই ক্ষেত্রে ছেলেরা মেয়েদেরকে তাদের বশে রাখে, অনেকটা একুরিয়াম কিনে মাছ পরিচর্যা করার মত অথবা পাখির খাঁচায় পাখি পালার মত। দুই ক্ষেত্রেই বিপদ ঘটার সম্ভাবনা থাকে। মাছ মরে যেতে পারে, পক্ষান্তরে পাখিও খাঁচা ভেঙ্গে উড়াল দিতে পারে।

তৃতীয়ত, ছেলে-মেয়ে উভয়ের ডমিন্যান্ট রিলেশন। এই ক্ষেত্রে ছেলে-মেয়ে দুজনেই একে অপরের উপর প্রভাব খাটায়। এতে করে তাদের মাঝে ঝগড়া, মারামারি, কাটাকাটি সব হলেও দিন শেষে তারা একসাথেই থাকে।
 --ক্ষণিকের আগুন্তুক



কাউকে ততটা বিশ্বাস করা উচিত নয়, যতটা করলে মাঝে মাঝে নিজেকেই নিজে অবিশ্বাস করার অবস্থা চলে আসে, মনে হয় সে যা বলে তাই হয়তো ঠিক।
--ক্ষণিকের আগুন্তুক


হারিয়ে গিয়েছিলাম আবার ফিরে এলাম। হারিয়ে যাওয়া আর ফিরে আসার মাঝেও অন্যরকম আনন্দ.........।। 
--ক্ষণিকের আগুন্তুক


মাঝে মাঝে জগত সংসার থেকে হারিয়ে যেতে পারলে মন্দ হতো না। কেননা হারিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা মানুষের সেই আদি লগ্ন হতেই।
--ক্ষণিকের আগুন্তুক


মানুষ মাত্রই বিভ্রান্তির শিকার, চুল পরিমান বিষয় নিয়েও মাঝে মাঝে বিরাট কিছু ঘটে যায় শুধুমাত্র এই বিভ্রান্তির জন্য। এটা মানব মন থেকে উঠে গেলে অনেক কিছুকেই সহজ বলে মনে হতো।
 --ক্ষণিকের আগুন্তুক


তুমি কারো কাছে ঠিক ততক্ষণ পর্যন্ত ভালো, যতক্ষণ পর্যন্ত সে তোমার কাছ থেকে তার আশানুরূপ ফল লাভ করবে। কোন কারনে যদি সেই ফল পাওয়া শেষ হয়ে যায়, তাহলেই তাকে তোমার কাছে খারাপ বলে মনে হবে। 
--ক্ষণিকের আগুন্তুক


"সুখ-দুঃখ হচ্ছে একই সুতোয় বাঁধা দুই প্রান্ত, কোন ভাবে সুখের প্রান্তটি বাতাসে বাঁকিয়ে গেলে দুঃখের দেখা মেলে।" 
--ক্ষণিকের আগুন্তুক


i wear sunglass because sometime it hides my tears. 
--ক্ষণিকের আগুন্তুক


যা দেখে, শুনে বা প্রত্যক্ষ করে মানুষ কষ্ট পায়, মানুষ চায় সেসব জিনিসগুলো হতে অনেক অনেক দূরে চলে যেতে। কেননা মানুষ সব সময় কষ্ট থেকে দূরে ভাগতে চায়, এটাই যে তার স্বভাবসলুভ প্রকৃতি। 
--ক্ষণিকের আগুন্তুক


নদীর উপর লঞ্চে বসে আকাশের তারাগুলোকে দেখতে এতটাই স্পট দেখায় যে, মনে হয় আমাদের মনটাও এতটা স্পষ্ট হলে মন্দ হতো না। কিন্তু আমরা তো কোন দেব দ্যূত বা তারার মত স্বচ্ছও নই, আমাদের সকলের মনের মাঝে সামান্যতম হলেও কুলশ বিদ্যমান। 
--ক্ষণিকের আগুন্তুক


মানুষের বিশ্বাসটা বড়ই অদ্ভুত, আজ একজনকে অনেক বেশি বিশ্বাস করলে হয়তো কাল তাকেই নাবিশ্বাস করে বসে। অদ্ভুত প্রবৃত্তি এই বিশ্বাসের। 
--ক্ষণিকের আগুন্তুক


কেউ কাউকে কষ্ট দিতে চায় না, দেয়ও না, বাইরে থেকে দেখলে একরকম দেখায় আর ভেতর থেকে অন্যরকম। 
 --ক্ষণিকের আগুন্তুক


কারো জীবন থেকে চলে যাওয়া মানেই তাকে ভুলে যাওয়া নয়.........।। 
--ক্ষণিকের আগুন্তুক


"মানুষকে কস্ট দেওয়াটা খুব সহজ,কিন্তু সুখী করাটাই সবচেয়ে কঠিন কাজ......."-ক্ষণিকের আগুন্তক